দিনের বেচাকেনা শেষে অন্য দিনের মতো দোকানে তালা ঝুলিয়ে বাড়ি যান ব্যবসায়ী মো. নাহিদ। কিন্তু গভীর রাতের একটি ফোনকল মুহূর্তেই পাল্টে দেয় সবকিছু। খবর আসে, তার দোকানে আগুন লেগেছে। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখেন আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে যাচ্ছে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলেও ততক্ষণে দোকানটি পরিণত হয় ধ্বংসস্তূপে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দিনগত রাত ১২টার দিকে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার সাচিলাপুর বাজারে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। আগুনে লিফটন ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড স্যানিটারি নামের একটি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এতে প্রায় ৩৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন দোকান মালিক।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মো. নাহিদ বলেন, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে প্রতিদিনের মতো দোকান বন্ধ করে বাড়ি যান। রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে মোবাইল ফোনে আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। একইসঙ্গে শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পাওয়ার পর দ্রুত সময়ের মধ্যেই স্টেশন লিডার মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের নেতৃত্বে শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। তবে বাজারটি ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরে মাগুরা থেকে আরও দুটি ইউনিট আনা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় প্রায় এক ঘণ্টার নিরলস প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পুরো অভিযান তদারকি করেন মাগুরা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম।
আগুনে দোকানের ইলেকট্রনিক্স পণ্য, স্যানিটারি সামগ্রী, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ প্রায় সব মালামাল পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মো. নাহিদ বলেন, আগুনে আমার দোকান পুরে সব শেষ হয়ে গেছে। প্রায় ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন আবার কীভাবে নতুন করে শুরু করব, বুঝতে পারছি না।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল ইসলাম। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলেন এবং আগুনে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লিডার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। বাজারটি ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি ছিল। পরে অতিরিক্ত ইউনিট যুক্ত হওয়ায় প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করছি।
খুলনা গেজেট/রুএ

